ব্রেস্ট পাম্পিংয়ের প্রাথমিক ধারণা
অনেক নতুন মা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন যেখানে সরাসরি বুকের দুধ খাওয়ানো সব সময় সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে ব্রেস্ট পাম্প করা আপনার শিশুকে বুকের দুধ দেওয়ার জন্য একটি নমনীয় ও নিরাপদ উপায়। আপনি যখন কাজে ফিরে যান, বা দুধের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চান, কিংবা ভবিষ্যতের জন্য দুধ সঞ্চয় করতে চান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাম্প অপরিহার্য।[১] কখন পাম্প করা শুরু করতে হবে এবং কত ঘন ঘন তা করতে হবে, সেই বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকলে দুধের সরবরাহ বজায় রাখতে এবং আপনার স্তন্যদানের যাত্রাকে সফল করতে সাহায্য করবে।

কখন পাম্প করা শুরু করবেন?
সময়টি আপনার শিশুর চাহিদা এবং আপনার বুকের দুধ খাওয়ানোর লক্ষ্যের উপর নির্ভর করে:
প্রথম কয়েক দিন থেকে ২ সপ্তাহ: শুধুমাত্র NICU-তে থাকা শিশু, অপরিণত শিশু, বা যাদের স্তন ধারণে (latch) অসুবিধা হচ্ছে, তাদের মায়েদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়। প্রথম দিকে পাম্পিং দুধের সরবরাহ প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।[২]
দুধের সরবরাহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে (২–৪ সপ্তাহ): বেশিরভাগ মায়েদের ক্ষেত্রে, স্তনবৃন্তের বিভ্রান্তি (nipple confusion) এড়াতে এবং শিশু কার্যকরভাবে স্তন ধরছে তা নিশ্চিত করতে বুকের দুধ খাওয়ানো ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে পাম্পিং শুরু করা যেতে পারে।[৩]
কাজে ফিরে যাওয়ার আগে: কাজে ফিরে যাওয়ার ১–২ সপ্তাহ আগে থেকে পাম্পিং শুরু করলে ভবিষ্যতের জন্য দুধ সঞ্চয় করতে সাহায্য করে এবং আপনার স্তনকে পাম্পিং রুটিনের জন্য প্রস্তুত করে।[৪]
কত ঘন ঘন পাম্প করবেন?
পাম্প করার সময়কাল আপনার লক্ষ্যের উপর নির্ভর করে—প্রাথমিকভাবে আপনার শিশু যত ঘন ঘন দুধ খায়, প্রায় ২৪ ঘণ্টায় ৮–১২ বার, তত ঘন ঘন পাম্প করা আদর্শ।[৫] বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি দিনে ২–৩ বার পাম্পিং সেশন পরে ব্যবহারের জন্য দুধ জমিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কাজের সময় প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পর পর পাম্প করুন, যা শিশুর দুধ খাওয়ার অনুকরণ করবে এবং সরবরাহ বজায় রাখবে।[৬][৭]
টিপস: ধারাবাহিকতা মূল চাবিকাঠি। বারবার পাম্পিং সেশন বাদ দিলে দুধের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
পাম্পিং কৌশল
ডাবল সিঙ্গেল পাম্পিং: দুটি স্তন একই সাথে পাম্প করলে কম সময়ে বেশি দুধ উৎপাদন হতে পারে এবং এটি বেশি কার্যকর।[৮]
হাতে ম্যাসাজ: পাম্প করার আগে এবং সময় স্তন আলতো করে ম্যাসাজ করলে দুধের প্রবাহ বাড়ে।[৫]
সঠিক ফ্লাঞ্জ সাইজ: সঠিক আকারের ব্রেস্ট শিল্ড ব্যবহার করলে নিপলে ব্যথা হয় না এবং ভালোভাবে দুধ বের করা নিশ্চিত হয়।[৬]
পাম্প করার সময় সাধারণ অসুবিধা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায়–
কম দুধ বের হওয়া
- কারণ: মানসিক চাপ, ঘন ঘন পাম্প না করা, বা ভুলভাবে স্তন ধারণ বা ভুল কৌশল ব্যবহার করা।
- সমাধান: ঘন ঘন পাম্প করুন, হাতে ম্যাসাজ অনুশীলন করুন, ফ্লাঞ্জের সঠিক আকার নিশ্চিত করুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং আরাম করুন।[৫][৬]
স্তনবৃন্তে ব্যথা বা অস্বস্তি
- কারণ: ফ্লাঞ্জের ভুল আকার, বেশি সাকশন বা ভুল অবস্থান।
- সমাধান: ফ্লাঞ্জের আকার ঠিক করুন, সাকশন কমিয়ে দিন, আরাম দেওয়ার জন্য ল্যানোলিন বা বের করা দুধ লাগান এবং পাম্প করার অবস্থান পরীক্ষা করুন।[৬][৮]
সময়ের সীমাবদ্ধতা
- কারণ: কাজে ফিরে যাওয়া বা ব্যস্ত সময়সূচী।
- সমাধান: পাম্পিং সেশনগুলো আগে থেকে পরিকল্পনা করুন, সময় বাঁচাতে ডাবল পাম্প ব্যবহার করুন এবং দক্ষতার সাথে দুধ সংরক্ষণ করুন।[৪][৭]
স্তন ভর্তি হয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া
- কারণ: পাম্পিং বাদ দেওয়া বা খাওয়ানোতে দেরি হওয়া।
- সমাধান: চাপ কমাতে পাম্প করুন, পাম্প করার আগে উষ্ণ সেঁক দিন এবং অস্বস্তি কমাতে পরে ঠান্ডা সেঁক ব্যবহার করুন।[৫]
মানসিক চাপ
- কারণ: দুধের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বা শিশু থেকে আলাদা থাকার অনুভূতি।
- সমাধান: রিল্যাক্সেশন কৌশল, সংক্ষিপ্ত ঘুম (short naps), ত্বক থেকে ত্বকের স্পর্শ (skin-to-skin contact) এবং পরিবার বা ল্যাক্টেশন কনসালটেন্টদের সমর্থন দুধের প্রবাহ (let-down) এবং সরবরাহ উন্নত করে।[৯]
দ্রষ্টব্য: দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা প্রতিরোধ করতে এবং আপনার শিশুর জন্য পর্যাপ্ত দুধ নিশ্চিত করতে স্থায়ী অসুবিধাগুলো নিয়ে ল্যাক্টেশন কনসালটেন্ট বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে আলোচনা করা উচিত।

মনে রাখুন
আধুনিক মায়েদের জন্য ব্রেস্ট পাম্পিং একটি মূল্যবান সরঞ্জাম, যা একদিকে যেমন নমনীয়তা দেয়, তেমনই অন্যদিকে দুধের সরবরাহ বজায় রাখতেও সাহায্য করে। সঠিক সময়ে শুরু করা, ধারাবাহিকভাবে পাম্প করা এবং উপযুক্ত কৌশল ব্যবহার করা নিশ্চিত করে যে আপনি আপনার শিশুর থেকে দূরে থাকলেও সে পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। অনুশীলনের মাধ্যমে পাম্পিং সহজ হয়ে যায়, যা মায়েদের কাজ, ভ্রমণ বা অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সাথে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি পরিচালনা করতে সহায়তা করে।
এই বিষয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
আমার কত ঘন ঘন পাম্প করা উচিত?
দুধের সরবরাহ বজায় রাখার জন্য প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পর পর (দিনে ৮–১২ বার) পাম্প করা উচিত, বিশেষ করে নবজাতকের জন্য বা যখন আপনি শিশুর থেকে দূরে থাকেন।
প্রতিটি পাম্পিং সেশন কতক্ষণ স্থায়ী হওয়া উচিত?
সাধারণত প্রতিটি স্তনে ১৫–২০ মিনিট অথবা যতক্ষণ না দুধের প্রবাহ কমে যায়।
পাম্পিং কি বুকের দুধ খাওয়ানোর বিকল্প হতে পারে?
পাম্পিং দুধের সরবরাহ বজায় রাখতে পারে, তবে দুধের সঠিক প্রবাহের জন্য সরাসরি বুকের দুধ খাওয়ানোই বেশি কার্যকরী।
তথ্য সুত্র
- World Health Organization. Breastfeeding: Guidelines and Recommendations. WHO, 2023, https://www.who.int/health-topics/breastfeeding.
- American College of Obstetricians and Gynecologists. “Breastfeeding and Pumping Basics.” ACOG, 2022, https://www.acog.org/womens-health/faqs/breastfeeding.
- Centers for Disease Control and Prevention. “Pumping Breast Milk.” CDC, 2023, https://www.cdc.gov/breastfeeding.
- Mayo Clinic. “Returning to Work and Breastfeeding.” Mayo Clinic, 2023, https://www.mayoclinic.org.
- Cleveland Clinic. “Breast Pumping Tips for Moms.” Cleveland Clinic, 2022, https://my.clevelandclinic.org.
- National Health Service (NHS). “Expressing Breast Milk.” NHS, 2023, https://www.nhs.uk/pregnancy.
- La Leche League International. “Breast Pumping Guidelines.” LLLI, 2023, https://www.llli.org/breastfeeding-info/.
- PubMed. “Efficiency of Double vs Single Breast Pumping.” U.S. National Library of Medicine, https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/.
- Harvard T.H. Chan School of Public Health. “Safe Handling of Expressed Breast Milk.” Harvard, 2022, https://www.hsph.harvard.edu.
